শিবলী নোমান

বুদ্ধিজীবী সংক্রান্ত থিসিস (১১-১৫)

শিবলী নোমান

 

১১.

ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্র একজন বুদ্ধিজীবীর মূল লক্ষ্যবস্তু, যা ধ্রুব। লক্ষ্যপূরণ হয়ে গেলে বুদ্ধিজীবী পুনরায় নতুন ক্ষমতা কাঠামোকে লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে তার তৎপরতা পরিচালনা করে। তাই বুদ্ধিজীবীর অবস্থান মূলত ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে।

 

১২.

বুদ্ধিজীবী বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ও অবস্থানের বাইরে আবিষ্কার করতে পারে, মূলত তা হওয়াই স্বাভাবিক। সংখ্যাগরিষ্ঠের বাইরে থাকার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নিজ অবস্থান ধরে রাখতে পারা বুদ্ধিজীবীর অন্যতম গুণ।

 

১৩.

কোন বিষয়ে বা প্রশ্নে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার দায় বুদ্ধিজীবীর থাকতে পারে না। বুদ্ধিজীবীর কাজ বরং যে কোন ঐকমত্যের ত্রুটিনির্দেশ, তথা নেতিকরণেই নিহিত।

 

১৪.

বুদ্ধিজীবীর নিজের সাথে নিজের সঠিক বোঝাপড়া থাকা সর্বাপেক্ষা জরুরি। যেহেতু বুদ্ধিজীবীর অবস্থান, মতামত ও কার্যাবলির অধিকাংশই সমাজের সিংহভাগের বিরোধিতায় পড়ে—তা সমাজের মানসিক ও বৌদ্ধিক অনগ্রসরতা, পিছুটান কিংবা সচেতন বিরোধিতা, যে কারণেই হোক না কেন—তাই বুদ্ধিজীবীকে সর্বদা বিরোধিতা, অপমান ও তাচ্ছিল্যের মুখে পড়তে হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিজের সাথে তার সম্যক বোঝাপড়াই তার মূল শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

 

১৫.

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী এই অর্থে কর্তৃত্বপরায়ণ হতে পারে না যে, সে তার অবস্থান, যুক্তি ও মতামত প্রতিষ্ঠায় অন্যের উপর জোর খাটাতে পারে না। কারণ যে উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সে তার নিজের বিরোধী মতামত সমাজে উপস্থাপনের সুযোগ পায় বা সুযোগ খুঁজতে থাকে, ঠিক সেই মুদ্রারই অপর পিঠ হিসেবে তার সকল বক্তব্য ধ্রুব সত্য হলেও তা সে কারও উপর চাপিয়ে দেয়ার মতো অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না। তার একমাত্র পথ হলো যুক্তির মাধ্যমে অন্যকে জয় করে নেয়া, সে পথ ও সেই পথের সংগ্রাম নিশ্চিতভাবেই দীর্ঘ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।