শিবলী নোমান

মাইক্রোফিকশন (২১-২৫)

শিবলী নোমান

 

২১.

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং যারা সরবরাহকৃত নাস্তা খান নি তাদের সামনে থেকে নাস্তা ফেরত নেয়ার ঘোষণাপূর্বক আজকের এই বিশেষ ও জরুরি সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হলো।

 

২২.

সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীর মুভমেন্ট টের পাওয়া মাত্রই সতর্ক হয়ে উঠলো স্নাইপার। রাইফেলের দূরবিনে সন্দেহভাজন হামলাকারীর চেহারা স্পষ্ট হতেই নিজের মাকে দেখতে পেলো সে। এরপর এক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে স্পর্শ করলো রাইফেলের ট্রিগার।

 

২৩.

শহরে আগত এক দার্শনিকের সাথে এক জ্ঞানপিপাসু নাগরিকের কথোপকথন…

– যেসব মানুষ সবার দুঃখ শুষে নিতে চায় ভালোবাসার দোহাই দিয়ে, তাদের আদতে আমার পাথর মনে হয় জনাব। অনুভূতিহীন, অভিনয়ে পূর্ণ, নাহলে এত মানুষের দুঃখ সে রাখে কোথায়! এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

– পাথরও তো কখনো কখনো ফেটে চৌচির হয়, তার বেলা?

 

২৪.

বড্ড তাড়া থাকার পরও মানুষগুলো খুব শান্তভাবে অপেক্ষায় আছে। লাইনে কোন বিশৃঙ্খলা নেই, নেই কোন আপত্তি-অভিমান। মোহাম্মদপুরের আল-মারকাজুল ইসলামীর বাইরে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িগুলোতে শুয়ে তারা অপেক্ষা করছে জীবনের সর্বশেষ গোসলের।

 

২৫.

– আপনাদের ব্যাংকে টাকা রেখে আমি কী কী সুবিধা পাবো?

– তেমন কোন সুবিধাই পাবেন না, স্যার।

– তাহলে টাকা রাখবো কেন?

– কারণ কোথায় ও কীভাবে টাকা খরচ করে আরো টাকা বানাতে হয়, তা আপনাদের মতোন বোকাচোদারা জানে না, স্যার!

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।