শিবলী নোমান

বুদ্ধিজীবী সংক্রান্ত থিসিস (১৬-২০)

শিবলী নোমান

 

১৬.

একটা পর্যায় পর্যন্ত নির্লিপ্ততা বুদ্ধিজীবীর অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী সহচর হিসেবে থাকতে পারে। কিন্তু প্রয়োজন বোধ করলে হঠাৎ করেই তিনি রাইফেলও তুলে নিতে পারেন। সাধারণ দৃষ্টিতে এই দুই বিপরীতধর্মী আচরণ পরস্পরবিরোধী ও আকস্মিক মনে হলেও, বুদ্ধিজীবীর নিজের সদা-চলমান দ্বান্দ্বিক চিন্তাপ্রক্রিয়ার ফল হিসেবেই এমন অবস্থার উদ্ভব ঘটে, যা খুব স্বাভাবিক। সাদা চোখে সোজা-সরল নির্লিপ্ততার আড়ালে তার তীব্র-চিন্তাবিষ্টতাই তাকে এমনতর র‍্যাডিকেল আচরণের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

 

১৭.

বুদ্ধিজীবী আদতে একজন পরিপূর্ণ মানুষ। আর একজন পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারা সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাই পরিপূর্ণ মানুষের মতো বিশুদ্ধ বুদ্ধিজীবী হয়ে উঠতে পারাও এক সুকঠিন ও নিরন্তর সংগ্রামী কর্মসূচি।

 

১৮.

অপরাপরের চোখে দৃশ্যমান ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-অবস্থান সকল বিচারে তাদের চোখে সর্বাপেক্ষা প্রকৃত ও জৈবিক মনে হলেও, যৌক্তিক জায়গা থেকে সেই মতামতকে বিভিন্নভাবে প্রশ্ন করার ও সন্দেহে ফেলে দেয়ার ক্ষমতাই বুদ্ধিজীবীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।

 

১৯.

সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের কাছে বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য পৌঁছে দিতে পারা বুদ্ধিজীবীর অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য যে কোন প্রচলিত-অপ্রচলিত-সাধারণ-র‍্যাডিকেল পথ সে বেছে নিতে পারে। এক্ষেত্রে এই প্রচারমুখিতা আদতে ব্যক্তির প্রচারমুখিতা নয়, বরং বক্তব্যের প্রচারমুখিনতার উপজাত হিসেবেই অনেক সময় ব্যক্তির প্রচার হয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই বুদ্ধিজীবীর বক্তব্য তার সমকালীন সমাজের বোধের বাইরে থেকে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে এমনতর প্রচার তার জন্য নানা প্রকার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

 

২০.

অন্যের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বুঝে নেয়ার চেষ্টা একজন বুদ্ধিজীবীর অনন্য গুন। আর এ কারণেই নিজের বিকাশের একটি পর্যায়ে বুদ্ধিজীবী আর অন্য কারো মতামত বা অবস্থানকে সম্পূর্ণ বাতিল করতে পারে না। এই অবস্থায় বুদ্ধিজীবী অপরাপর মতামতের দুর্বলতা প্রকাশ, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা প্রদর্শন ও গঠনমূলক সমালোচনাই করতে পারে মাত্র।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।