শিবলী নোমান

ইসলাম শান্তিপ্রিয় ধর্ম

মেহদি হাসান

ভাষান্তর: শিবলী নোমান

(২০১৩ সালের মে মাসে অক্সফোর্ড ইউনিয়নে ‘ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম’-শিরোনামে একটি পার্লামেন্টারি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। শিরোনামের প্রস্তাবের পক্ষে বক্তৃতা দেন ম্যাথিউ হ্যান্ডলি, আদম দ্বীন ও মেহদি হাসান। বিপক্ষে কথা বলেন অ্যান-ম্যারি ওয়াটারস, ড্যানিয়েল জনসন ও পিটার অ্যাটকিনস। বিতর্ক শেষে ২৮৬-১৬৮ ভোটে ‘ইসলাম একটি শান্তিপ্রিয় ধর্ম’ শীর্ষক প্রস্তাবটি পাশ হয়, অর্থাৎ বিজয়ী হয়।

এখানে মেহদি হাসানের বক্তব্যটি বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বক্তৃতাটির ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহ করা হয়েছে এই লিংকের ৪র্থ কমেন্ট থেকে (যদিও উক্ত ট্রান্সক্রপ্টে কিছু বিচ্যুতি রয়েছে, অনুবাদের সময় সেগুলো যথাসম্ভব ঠিক করার চেষ্টা করে হয়েছে) ।

তবে এটি উল্লেখ করা জরুরি যে, মেহদি হাসানের এই বক্তৃতাটির অনুবাদ বা ট্রান্সক্রিপ্ট পড়ার চেয়ে মূল বক্তৃতাটি দেখা ও শোনা অনেক বেশি উপভোগ্য। মূল বক্তৃতাটির ভিডিও পাওয়া যাবে এখানে ।)

আপনাকে ধন্যবাদ সভাপতি মহোদয়। এখানে উপস্থিত নারী ও পুরুষদের জানাই সান্ধ্যকালীন শুভেচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সবাইকে আজ রাতে এখানে পাওয়াটা এক দারুণ ব্যাপার। আমরা দারুণ এক রাত পার করছি, তাই নয় কি? আজ হাউজের বিপরীত দিক থেকে অনেকগুলো চিত্তাকর্ষক বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে, ইসলাম ধর্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে এটি বলে শুরু করতে দিন, যেখানে আমি নিজেকে ইসলাম ধর্মের একজন দূত হিসেবে, ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হিসেবে, ইসলাম ধর্ম ও এর নবীর (সঃ) অনুসারী হিসেবে বিবেচনা করতে চাচ্ছি, আর সে হিসেবে আমাকে শুরু করতে দিন অ্যান-ম্যারির কাছে বালির বোমা হামলার ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে। থিও ভ্যান গগের হত্যাকাণ্ড, ৭/৭ এর ঘটনায় আমার ধর্ম, আমার ও আমার (ধর্মের) মানুষের ভূমিকার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। হ্যা, ঐসব ঘটনা আমরা সবাই মিলে ঘটিয়েছি, এর পেছনে ছিল ইসলাম ধর্ম, ছিল মুসলিমরা, ছিল কোরআন শরীফ। আমি বলতে চাচ্ছি প্রথম বক্তৃতায় আশ্চর্যজনক, খুবই আশ্চর্যজনক একটি দাবি করা হচ্ছে, আজকের মতো একটি দিনে, যখন যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী মুখ খুলেছেন এবং এই ধরনের মনোভাবকে অশুভ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর আমি বিশ্বাস করি আপনি ব্রাইটনের নির্বাচনে লেবার পার্টি সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। যদি আপনি তাই করে থাকেন এবং এই ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে আমার অনুমান হুইপের সমর্থন আপনি হারাতে যাচ্ছেন। কিন্তু একই সাথে ইউকেআইপি-র উত্থান ঘটছে, তারা আপনাকে দলে নিয়ে নিবে।  বিএনপি-র হয়তো আপনার দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে কিছু বলার থাকতে পারে।

যদি তথ্যভিত্তিক অবস্থান থেকে দেখতে চাই, যেহেতু দ্বিতীয় বক্তার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শুনেছি এ বিষয়ে যে, আমরা মুসলমানরা কতটা পশ্চাৎপদ…তথ্যভিত্তিক অবস্থান থেকে বলছি, আপনি বলেছেন ইসলাম ধর্মের জন্ম হয়েছে সৌদি আরবে। ইসলাম ধর্মের জন্ম হয়েছিল ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে, আর সৌদি আরবের জন্ম ১৯৩২ সালে। আপনি মাত্র এক হাজার তিনশত বাইশ বছরের পার্থক্যে আছেন, খারাপ নয়, খুব খারাপ সূচনা নয়।

কথা প্রসঙ্গে গণিতের কথা বলা যেতে পারে, আল খারেজমি নামে একজন ছিলেন, সর্বকালের মহান গণিতজ্ঞদের ভেতর একজন, একজন মুসলিম যিনি ইসলাম ধর্মের স্বর্ণালী সময়ে কাজ করেছিলেন। তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি শুধু বীজগণিত বা অ্যালজেবরাই নয় বরং অ্যালগরিদমের ধারণাকেও সামনে নিয়ে এসেছিলেন। অ্যালগরিদম ছাড়া আপনাদের কাছে ল্যাপটপ থাকতো না, ল্যাপটপ ছাড়া ড্যানিয়েল জনসন তার বক্তৃতার কপি প্রিন্ট করতে পারতেন না, যে বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি পশ্চিমের অগ্রসরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জনসমূহকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমাদেরকে, মুসলমানদেরকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন; যে অগ্রসরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অর্জনসমূহের সবই অর্জিত হয়েছে ইউরোপের ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্মের মানুষ ব্যতীত অন্য কারো কোনরূপ অবদান ছাড়াই।

দেখুন ড্যানিয়েল, পুলিৎজার পুরষ্কার বিজয়ী ইতিহাসবিদ এবং দ্য গোল্ডেন প্রিজম অব উইন্টার-এর লেখক ডেভিড লেভারিং প্রকৃত পক্ষে দেখিয়েছেন যে, ইবনে সিনা , ইবনে রুশদ এবং ইউরোপে গ্রিক রচনাসমূহ নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কতিপয় মহান মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানীদের পালিত ভূমিকা ছাড়া ইউরোপে কোন রেনেসাঁ, রিফর্মেশন সম্ভব হতো না।

আর তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘আমাদের’ বলার ক্ষেত্রে…আমি বিষয়টিকে কে আসলে ‘আমরা’, আর কে আসলে ‘তারা’ সেই ভাবনার উপর ছেড়ে দিবো। আমি নিজেও এখানে পড়ালেখা করেছি।

আজ রাতে এখানে এখন পর্যন্ত আশ্চর্যজনক, খুবই আশ্চর্যজনক বক্তৃতার সমাহার ঘটেছে…এতে মিশ্রিত হয়েছে শুধুমাত্র কিছু সুবিধাজনক উদ্ধৃতি, তথ্য ও চিত্র যা  নিজস্ব স্বার্থসম্পর্কিত, নির্বাচনমূলক, বিকৃতির জগাখিচুড়ি, ভুল উপস্থাপন, ভুল ব্যাখ্যা, ভুল উদ্ধৃতি…ড্যানিয়েল নিউ স্টেটসম্যান-এ লেখা আমার আর্টিকেলের ব্যাপারে বলেছেন, যার জন্য আমি অনেক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছিলাম, যেখানে আমি ইহুদিবিদ্বেষ বা অ্যান্টসেমিটিজম নিয়ে কথা বলেছিলাম যা মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু কিছু অংশে বিদ্যমান, আর তা প্রকৃতপক্ষেই বিদ্যমান। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই আমি এটি এভাবে বলি নি যে, এর (ইহুদিবিদ্বেষের) কারণ হলো ইসলাম ধর্ম। আদতে মধ্যপ্রাচ্যে আধুনিক ইহুদিবিদ্বেষ আমদানি হয়েছে—বাক্যটি শেষ করুন—ইহুদি-খ্রিষ্টান ইউরোপ থেকে; যেখানে, আমি বিশ্বাস করি, ইহুদিদের সাথে বেশ কিছু খারাপ ঘটনা ঘটেছিল। তাছাড়া নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর ইহুদি-মার্কিন কলামিস্ট টম ফ্রাইডম্যান গত সপ্তাহে এই কক্ষেই আমাকে বলেছেন যে তিনি বিশ্বাস করেন যে, যদি ১৯৪০ এর দশকে মুসলমানরা ইউরোপকে পরিচালনা করতো তাহলে আজ আরো ষাট লাখ ইহুদি জীবিত থাকতো। আর তাই আমি এমন কারো কাছ থেকে ইহুদিবিদ্বেষ বিষয়ে শিক্ষা নিতে যাবো না, যিনি এখানে এসেছেন একটি মহাদেশের ইহুদি-খ্রিষ্টান মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলতে, যে মূল্যবোধ ষাট লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছে।

দ্রুত সামনে এগিয়ে যাই, দ্রুত সামনে এগিয়ে যাই…

(উপস্থিত শ্রোতাদের ভেতর একজন এই সময় দাঁড়িয়ে মেহদি হাসানকে একটি প্রশ্ন করেন, যা স্পষ্ট বুঝতে পারা যায় না। তবে মেহদি হাসানের পরবর্তী কথায় মনে হয় যে, এ সময় ঐ ব্যক্তি মূলত জানতে চেয়েছিলেন যে এসব বক্তৃতায় শুধু পরস্পরের নিন্দা ও পরস্পরকে দোষারোপই করা হবে কিনা—অনুবাদক)

হ্যা, আমি ঠিক এ বিষয়েই বলতে যাচ্ছিলাম, ঠিক এ বিষয়েই বলতে যাচ্ছিলাম। আপনি সঠিক, আমি আপনার সাথে একমত, আমি আপনার সাথে একমত। আমি আপনার সাথে ১১০ পারসেন্ট একমত। এটিই আমার বলার মূল বিষয়।

আমি এমনটা ভাবি না যে ইউরোপ শয়তান বা খারাপ, আমি একজন অত্যন্ত গর্বিত ইউরোপীয়। আমি ইউরোপকে এ ধরনের ভিত্তি দিয়ে বিচার করতে চাই না। কিন্তু আমরা যদি এমন নোংরা খেলা খেলতে চাই যেখানে আমরা বালি বোমা হামলার ঘটনাকে টেনে আনবো, আর টেনে আনবো ইসলাম ধর্মে ইহুদিবিদ্বেষের উদাহরণগুলোকে, তাহলে অবশ্যই আমি এসব বিষয়ে ফিরে আসবো আর বলবো, থামুন। দেখুন, আমি বিষয়টি খুবই স্পষ্ট করতে চাই, এখানে উপস্থিত ড্যানিয়েল হলো ডগলাস মারের প্রতিস্থাপন, যাকে সরে যেতে হয়েছে এবং এটি ঘটেছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। আর ডগলাস ও আমার ভেতর রয়েছে একেবারে স্পষ্ট দালিলিক পার্থক্য। কিন্তু ডগলাস এবং অ্যান-ম্যারি ও পিটারের প্রতিও ন্যায্যতার জন্য বলতে চাই: নাস্তিক। নাস্তিকরা সকল ধর্মকে দেখে শয়তান, সহিংস ও ভীতিকর হিসেবে।

ড্যানিয়েলের বক্তৃতা নিয়ে আমার সমস্যা হলো ড্যানিয়েল এখানে এসেছেন উচ্চস্বরে খ্রিষ্টানত্বের এই শক্তিশালী প্রতিরক্ষার পক্ষে বলার জন্য, আর তিনি এটি ভুলে গিয়েছেন যে তার সঙ্গী খ্রিষ্টানরা—সেসব মানুষ, যারা বলে তারা যিশুর নামে এগুলো করছিল—আমাদেরকে দিয়েছে ক্রুসেড, স্প্যানিশ ইনকুইজিশন, ইহুদিবিরোধী পগ্রোম, আফ্রিকা ও এশিয়ায় ইউরোপীয় উপনিবেশবাদ, উগান্ডায় দ্য লর্ড’স রেজিস্ট্যান্স আর্মি; আরও আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্ভপাত হাসপাতালগুলোতে অগণিত অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা, যা আজ পর্যন্ত চলছে। সহিংসতা, সন্ত্রাস ও অসহিষ্ণুতা প্রশ্নে অন্যান্য সম্প্রদায় ও অন্যদের বিশ্বাস নিয়ে তার বক্তৃতা শুরু করার আগে ড্যানিয়েলের কাছে আমি সামান্য বিনয় আশা করতে বেশি পছন্দ করবো।

কিন্তু আমি এই ভদ্রলোকটির (যিনি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলেন—অনুবাদক) খুবই সঠিক বিষয়টি সম্পর্কে বলতে চাই, আমি এই নোংরা খেলা খেলতে যাচ্ছি না। উগান্ডাতে দ্য লর্ড’স রেজিস্ট্যান্স আর্মি যা করেছে; অথবা, দ্বাদশ বা ত্রয়োদশ শতকে, অথবা যখনই এটি ঘটে থাকুক না কেন, জেরুজালেম শহর পুনরায় দখলের সময় ক্রুসেডাররা ইহুদি ও মুসলমানদের সাথে যা করেছিল, তার কারণে আমি এমনটা বিশ্বাস করি না যে খ্রিষ্টধর্ম একটি সহিংস ও ঘৃণাবাদী ধর্ম। আমি বিশ্বাস করি ইসলাম ধর্ম এবং আর সকল মূলধারার ধর্মের মতোই খ্রিষ্টধর্মেরও ভিত্তি হলো ভালোবাসা, করুণা এবং বিশ্বাস। আমি এমন এক ধর্ম অনুসরণ করি যেখানে কোরআন শরীফের ১১৪টি সূরার ভেতর ১১৩ টি শুরু হয়েছে ইসলাম ধর্মের ঈশ্বরকে ক্ষমা ও করুণার ঈশ্বর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। আমার পক্ষে সম্ভব হলেও আমি এর কোন পরিবর্তন করতাম না। আমি এমন কোন ধর্মের অনুসারী না যা আমার কাছে আমার ঈশ্বরকে তীব্র ক্রোধান্বিত গ্রিক ঈশ্বরের মতো একজন যুদ্ধের ঈশ্বর, ঘৃণার ঈশ্বর এবং অবিচারের ঈশ্বর হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়; একদমই না।

আদম যেভাবে দেখিয়েছেন, আপনি কোরআন শরীফ দেখুন। দেখুন এর ক্ষমা, ভালোবাসা ও ন্যায়বিচার। এবং হ্যা, আপনি এতে এমন আয়াতও পাবেন যা যুদ্ধবিগ্রহ ও সহিংসতার কথা বলে, অবশ্যই এমনটা আছে। আজকে আমরা শান্তিবাদ নিয়ে আলোচনা করছি না, আমি এ বিষয়ে তর্ক করতে আসি নি যে ইসলাম একটি শান্তিবাদী বিশ্বাস। এটি ঠিক এমন না। ইসলাম ধর্ম কিছু নির্দিষ্ট ও সীমিত প্রেক্ষাপটে সামরিক কর্মকাণ্ড ও সহিংসতাকে বৈধতা দেয়। এবং হ্যা, মুসলমানদের ক্ষুদ্র একটি অংশ এই বিষয়গুলোকে এসব প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে আসে। কিন্তু এটি কি ধর্মনিষ্ঠ?

আমরা উলউইচের ব্যাপারে কথা বলেছি। ড্যানিয়েল এবং অ্যান-ম্যারি বলতে চেয়েছেন যে এসবের পেছনে নিশ্চিতিভাবেই রয়েছে ধর্ম। কিন্ত আজ রাতে যে বিষয়টিকে আমি আসলে সবচেয়ে মজাদার হিসেবে পেয়েছি তা হলো, (এখানে) আমরা ইসলাম ধর্ম নিয়ে বিতর্ক করছি এবং বিরোধী পক্ষ হিসেবে আজ যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের ভেতর আমরা পেয়েছি একজন আইনশাস্ত্রে স্নাতক, একজন আধুনিক ইতিহাসে স্নাতক এবং রসায়নে একজন স্নাতক। আর জেনে রাখুন, আমি তাদের সকল বৌদ্ধিক গুণাবলি ও সক্ষমতাকে সমীহ করি; কিন্তু মুসলমানরা কী বিশ্বাস করে বা কী ভাবে তা নিয়ে কথা বলার জন্য আমরা এমন কাউকে পাই নি যিনি ইসলাম বিষয়ে আদতেই একজন বিশেষজ্ঞ, ইসলাম বিষয়ে পণ্ডিত, ইসলামি ইতিহাসবিদ, একজন আরবিভাষী, অন্তত একজন সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ, অথবা একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, বা নিদেন পক্ষে একজন মতামত জরিপ বিশ্লেষক। এর বদলে আমরা এখানে এমন কয়েকজনকে পেয়েছি যারা এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে তুলে ধরছে, এসব মাত্রাজ্ঞানহীন মতামতকে সামনে নিয়ে আসছে। আমেরিকার অন্যতম প্রধান সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট পাপের কথাগুলো শুনুন, যিনি—আজ রাতে আমাদের সম্মানিত প্রতিপক্ষের মতো না, (বরং)—১৯৮০ থেকে ২০০৫ সালের ভেতর সংঘটিত প্রতিটি আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন, যার মোট সংখ্যা ৩১৫টি এবং আমি তাঁর উপসংহার থেকে উদ্ধৃত করছি,

আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসলামি মৌলবাদ কিংবা বিশ্বের অন্য কোন ধর্মের সামান্যই সংযোগ আছে। এর বিপরীতে প্রায় সকল আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদী হামলার ভেতর যে বিষয়ে মিল আছে তা হলো একটি ভূখণ্ড থেকে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নিতে আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে বাধ্য করার একটি নির্দিষ্ট, ইহজাগতিক বা সেক্যুলার এবং কৌশলগত লক্ষ্য, (যে ভূখণ্ডকে) সন্তাসবাদীরা নিজেদের স্বদেশ মনে করে।

আর পরিহাসের বিষয় হলো, আমরা যখন সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলি, পরিহাসের বিষয় হলো যে (আজকের) প্রতিপক্ষ ও আল-কায়দার মতো মুসলিম সন্ত্রাসবাদীদের ভেতর আসলে একটি বিষয়ে মিল আছে, কারণ তারা উভয়ই মনে করে যে ইসলাম একটি যুদ্ধবাজ ও সহিংস ধর্ম। তারা উভয়ই এই বিষয়ে একমত! তাদের সবকিছুই মিলে যায়! আজ রাতে প্রতিপক্ষ থেকে আমরা  যা যা শুনতে পেলাম, সেগুলো শুনে ওসামা বিন লাদেনও তাদের সাথে মাথা নাড়তেন। সমস্যা হলো, সমস্যাটি হলো মূলধারার মুসলিমরা এটি করবে না, এবং বিশ্বের মুসলমানদের সিংহভাগ এট করবে না। একজন ভদ্রলোক এখানে এসেছিলেন এবং বিভিন্ন ধরনের জরিপের ফলাফল থেকে উদ্ধৃতি দেয়া শুরু করেছিলেন। সারা বিশ্বের মুসলমানদের নিয়ে সবচেয়ে বড় জরিপটি করেছিল গালুপ। (এতে অংশ নিয়েছিলেন) ৩৫টি দেশের ৫০ হাজার মুসলমান। এতে ৯৩ শতাংশ মুসলমান ৯/১১ ও আত্মঘাতী হামলাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; আর যে সাত শতাংশ এটি করেন নি, জরিপ ও ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় তাদের সবাই এমন সহিংসতা সমর্থনের পেছনে রাজনৈতিক কারণ উল্লেখ করেন, কোন ধর্মীয় কারণ নয়।

আর ইসলামিক বিদ্বজ্জন, এবং তারা কী বলে? বেশ! ড্যানিয়েল “আমাদের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়”-এর ব্যপারে বলছিলেন। বেশ! অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ-এ চলে যান। বুঝার চেষ্টা করুন শেখ আফিফি আল-আকিতিকে, যিনি একজন দারুণ যোগ্যতাসম্পন্ন এবং সম্মানিত ইসলামিক পণ্ডিত, যিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পড়ালেখা করেছেন, যিন ৭/৭ এর ঘটনার পরের দিন একটি ফতওয়া প্রকাশ করে ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদকে বাতিল করেছেন, সকল বেসামরিক মানুষকে সর্বদা নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং আত্মঘাতী বোমা হামলাকে ইসলামি আইনের সাথে কোন ধরনের সম্পর্কহীন এক উদ্ভাবন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যান এবং শুনে দেখুন পাকিস্তানের অন্যতম বিখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিত শেখ তাহির উল-কাদরিকে, যিনি সকল নিরপরাধী ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড ও সকল আত্মঘাতী বোমা হামলার শর্তহীন নিন্দা করে ৬০০ পৃষ্ঠার একটি ফতওয়া প্রকাশ করেছেন, যেখানে কোন যদি বা কিন্তু নেই। এর কোন কিছুই নতুন নয়। এটিই মূলধারার ইসলাম, মূলধারার পাণ্ডিত্য, যা বছরের পর বছর ধরে বলা হয়েছে: কোরআন শরীফের কোন আয়াতকে এর কোন প্রেক্ষাপট, কোন বোঝাপড়া, কোন ব্যাখ্যা বা কোন মন্তব্যের বাইরে এনে একে ভিত্তি করে আপনি এগুতে পারেন না এবং রাস্তা বা অন্য কোথাও, বাসে বা (শপিং) মলে খেয়াল-খুশিমতো মানুষ হত্যা করতে পারেন না।

[অস্পষ্ট একটি প্রশ্ন]

আমি বলি নি এমনটা একদমই হয় না, আমি কখনোই বলি নি এমনটা হয় না। কিন্তু আমি ইসলাম ধর্মকে দোষারোপ করি না। এটি খুব ভালো একটি আলোচনা এবং আমাদের ভেতর অনেকেই, অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন এবং আমরা ইসলাম ধর্মের অধীনে এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছি, এবং আমরা এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছি ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ব্যাখ্যার অধীনে। অ্যান-ম্যারি এখানে এসেছেন এবং শরীয়াহ আইন নিয়ে তার কথা-বার্তা দিয়ে আমাদের ভয় দেখিয়েছেন। আমি শরীয়াহ আইনের বই দেখতে চাই। এমন কিছু আদতে নেই; শরীয়াহ আইন আসলে কী তা নিয়ে মানুষ তর্ক করে। আর এই আইনের মাত্র একটি ভাষ্য আছে এমনটা বলে আপনি চরমপন্থীদের ক্ষমতায়ন করেন। আপনি তাদের সবাইকে ক্ষমতায়িত করেন। [অ্যান-ম্যারি, আপনি বক্তৃতার মাঝে কোন ধরনের বাধাকে গ্রহণ করেছেন তা আমি বিশ্বাস করি না, তাই আমি মনে করি আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।] (অ্যান-ম্যারি এখানে মেহদি হাসানের বক্তব্যের বিপরীতে কথা বলা শুরু করেছিলেন—অনুবাদক)

এখানে আমরা ১,৪০০ বছরের পুরনো একটি বৈশ্বিক ধর্ম নিয়ে কথা বলছি, পৃথিবীর সকল স্থানে ছড়িয়ে থাকা মানব সভ্যতার এক চতুর্থাংশ, সকল পটভূমি, সংস্কৃতি ও নৃতত্ত্বের ১৬০ কোটি মানুষ যা অনুসরণ করে। আর তারপরও এই বিতর্কে মরিয়া হয়ে জয়লাভের জন্য আজকের প্রতিপক্ষ একে সাধারণীকৃত, ছাঁচিকৃত ও কলঙ্কিত করতে চাইছে। আর আমার প্রশ্ন হলো, যদি আমরা সাধারণিকৃত ও কলঙ্কিত করতে যাই, মানুষ বলে—আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে কারণ এই বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন—গতকালের হামলাকারীরা কি ইসলাম ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন? একটি বড় বিতর্ক। আমি বিশ্বাস করি না তারা তা ছিল, তবু ধরে নিলাম তারা তা ছিল। ধরা যাক টাইমস স্কয়ারে বোমা হামলাকারী ফয়সাল শাহজাদ ইসলাম ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন, তর্কের খাতিরে এটি ধরে নিন…দ্য শু বম্বার নামে পরিচিত রিচার্ড রিড ইসলাম দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিলেন। যদি এর জন্য ইসলাম দায়ী হয়ে থাকে, যদি ইসলাম ধর্মই এই মানুষদের অনুপ্রাণিত করে থাকে, এবং ইসলাম যদি শান্তির ধর্ম না হয়ে যুদ্ধের ধর্মই হয়ে থাকে, তাহলে নিজেদেরকে প্রশ্ন করুন: কেন আমরা, বাকিরা তা করছি না? কেন? আসলে কি মুসলমানদের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ তাদের ধর্মকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করছে ঠিক সেভাবে, যেমনটা প্রতিপক্ষ দাবি করছে? ধরা যাক পৃথিবীতে ১৬ হাজার আত্মিঘাতী বোমা হামলাকারী আছে, আসলে নেই কিন্তু তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যাক। এটি হলো বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যার ০.০১ শতাংশ। তাহলে বাকি ৯৯.৯৯ শতাংশ মুসলমানের কী হবে যাদেরকে আজকের প্রতিপক্ষ হয় এড়িয়ে যাচ্ছে অথবা কলঙ্কিত করছে?

বাস্তবতা হলো আমরা, বাকিরা আজ রাতে নিজেদের বোমায় উড়িয়ে দিতে যাচ্ছি না। বাস্তবতা হলো আজ রাতে এখানে আসা প্রতিপক্ষরা এটি ভেবে আতঙ্কিত নয় যে, আমি এবং আদম আজ রাতে আমাদের জ্যাকেট খুলে আমাদের সবাইকে বোমায় উড়িয়ে দিতে পারি, কারণ আমরা একটি যুদ্ধবাজ, যোদ্ধা ধর্মের অনুসারী যেটি ইউরোপ ও ড্যানিয়েলের বিশ্ববিদ্যালয়কে দখল করে নিতে চায়। এখানে বিষয়টি হলো: যতক্ষণ না প্রতিপক্ষ আজ আমাদের বলতে পারে—এখানে আমাদের অন্যতম প্রধান নাস্তিক বুদ্ধিজীবী পিটার অ্যাটকিনসও আছেন—যতক্ষণ না বলতে পারেন…তারা কি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন?…বিশ্বের মুসলমানদের বিশাল অংশ কেন রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত চরমপন্থীদের একটি অতিক্ষুদ্র অংশের মতো সহিংস ও আক্রমণাত্মক আচরণ করে না? (যদি তারা না পারেন) তাহলে একই সাথে তাদের হার মানা উচিত এবং সার্বিকভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে তাদের প্রাসঙ্গিক কিছু বলার আছে, এমন ভাব দেখানোও থামানো উচিত।

উপস্থিত সুধী, আমি আপনাদের বলতে চাই: ভেবে দেখুন আজকের মোশনের বা আলোচ্য বিষয়ের বিপরীতে কী আছে, যদি আপনারা আজ না-এর পক্ষে ভোট দেন, ভেবে দেখুন তাহলে আপনারা এই মোশনের বিপরীতে কী বলছেন? (বলছেন যে) ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়, এটি যুদ্ধ, সহিংসতা, সন্ত্রাস, আগ্রাসনের ধর্ম; যারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করে, আমি, আমার স্ত্রী, আমার অবসরপ্রাপ্ত মা-বাবা, আমার ছয় বছরের সন্তান, ব্রিটেনে বসবাসরত ১৮ লাখ মানুষ, বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ১৬০ কোটি মানুষ, আপনাদের মতোই মানুষ, সবাই একটি সহিংস ধর্মের অনুসারী, পৃষ্ঠপোষক ও বিশ্বাসী। আপনারা কি আসলেই তা ভাবেন? আপনারা কি আসলেই মনে করেন যে এমনটাই ঘটছে?

তারা বলেন যে অক্সফোর্ড ইউনিয়নে সবচেয়ে বিখ্যাত বিতর্কটি হয়েছিল ১৯৩৩ সালে। যখল অ্যাডলফ হিটলার কিং অ্যান্ড কান্ট্রি মোশন-এর ফলাফলের খোঁজ রাখছিলেন। যেখানে তারা রাজা ও দেশের জন্য যুদ্ধ করার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং হিটলার ফলাফল জানার জন্য তা শুনছিলেন। ৮০ বছর পর আজ রাতে, আমার মতে বিশ্বব্যাপী দুইটি দলের মানুষ আছে যারা আজ রাতের ভোটের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। একদিকে আছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং অন্যান্য স্থানের লাখ লাখ শান্তিপ্রিয়, অহিংস, আইনের প্রতি অনুগত মুসলমান, যারা ইসলাম ধর্মকে তাদের পরিচয়, আত্মিক পরিপূর্ণতা, প্রত্যাশা, স্বান্তনার উৎস হিসেবে দেখে থাকে…আরেকদিকে আছে ভীতি, ঘৃণা; আছে অন্ধবিশ্বাসীরা যারা সভ্যতার সংঘাতকে উসকে দিতে চায়; যারা আমাদের সবাইকে ‘তারা’ ও ‘আমরা’ এবং ‘আমাদের’ ও ‘তাদের’ ভেতর ভাগ করতে চায়।

উপস্থিত শ্রোতাগণ, এই ভীত ও অন্ধবিশ্বাদীদের বক্তব্যকে উৎসাহিত না করার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। তাদের বিভক্তি ও ঘৃণাকে বৈধতা দিবেন না। আপনি সেই সব মুসলিমদের বিশ্বাস করুন যাদের আপনি জানেন, যাদের সাথে আপনার দেখা হয়েছে, যাদের (কথা) আপনি শুনেছেন; যারা সহিংসতায় বিশ্বাস করে না; যারা কোরআন শরীফের শান্তিপূর্ণ বার্তাগুলো শুনতে চায় কারণ তারা বিশ্বাস করে এই বিষয়গুলো সিংহভাগ মুসলমানদের শেখাতে হবে; (যারা শুনতে চায়) শান্তি, করুণা ও ক্ষমার ইসলামকে, কোরআন শরীফের ইসলামকে, আল-কায়দার নয়।

উপস্থিত সুধী, আমি হাউজের কাছে একটি মোশন প্রস্তাবের জন্য অনুরোধ করছি। আমি আজ রাতে হ্যা-এর পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি।

আমাকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

 

(মেহদি হাসান, ব্রিটিশ-আমেরিকান রাজনীতি বিষয়ক সাংবাদিক, সম্প্রচারক ও লেখক)

 

অনুবাদকের সংযোজিত টীকা:

১। ২০০২ সালের ১২ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে তিনটি পৃথক বোমা হামলায় বিভিন্ন  দেশের ২০২ জন নিহত হয়, এছাড়া আহত হয় আরো দুই শতাধিক। এর পেছনে জামাহ ইসলামিয়াহ নামক একটি সংগঠনকে দায়ী করা হয়।

২। থিও ভ্যান গগ ছিলেন একজন ডাচ পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও লেখক। ইসলাম ধর্মে নারীদের প্রতি আচরণ নিয়ে ভ্যান গগ সাবমিশন: পার্ট ওয়ান নামে একটি শর্ট ফিল্ম পরিচালনা করেছিলেন, যা রচনা করেছিলেন সোমলিয়ান লেখক ও রাজনীতিবিদ আয়ান হিরসি আলী। এতে ইসলাম ধর্মকে শক্তভাবে সমালোচনা করা হয়। এই শর্ট ফিল্মের বার্তার বিরোধিতা করতে গিয়ে ২০০৪ সালে ০২ নভেম্বর মোহাম্মেদ বোয়েরি নামেক একজন ডাচ-মরোক্কান ভ্যান গগকে হত্যা করে।

৩। ২০০৫ সালের ০৭ জুলাই ইংল্যান্ডের লন্ডনে চারটি পৃথক আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৫৬ জন নিহত হয় (চারজন হামলাকারীসহ), আহত হয় সাত শতাধিক। এই হামলার পেছনে ইসলামি সন্ত্রাসবদীদের দায়ী করা হয়।

৪। ইউনাইটেড কিংডম ইনডিপেনডেন্স পার্টি, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের একটি ডানপন্থি রাজনৈতিক দল।

৫। ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টি, ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের একটি কট্টর ডানপন্থি ও ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল।

৬। এখানে দক্ষিণ লন্ডনের জেলা উলউইচে ২০১৩ সালের ২২ মে তারিখে ব্রিটিশ সেনাসদস্য লি রগবির হত্যাকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিনই অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কটি অনুষ্ঠিত হয়।

৭। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি জরিপ পরিচালনাকারী ও পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।