প্রকাশিত বই
ঔপনিবেশিকতা ও রাজনীতি
ঔপনিবেশিক আধুনিকতা
বাংলায় ধাত্রীবৃত্তি (১৮৬০-১৯৪৭)
২০১৮ সালে প্রকাশিত অম্বলিকা গুহের এই বইটি মূলত দেখাতে চেয়েছে যে বাংলায় ১৮৬০ সাল থেকে ১৯৪৭ সালের ভেতর ধাত্রীবৃত্তি কীভাবে প্রচলিত দাইদের থেকে সরে গিয়ে পেশাদার ধাত্রী ও চিকিৎসকদের আধিপত্যপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছিল। এই গবেষণা দেখায় যে, জন্মদান চর্চা সংস্কারের জন্য উনিশ শতকের শেষ দিকের উদ্যোগগুলো কীভাবে মূলত ছিল ভারতীয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক আচরণবিধির ঔপনিবেশিক সমালোচনার বিপরীতে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত উপনিবেশিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির এক আধুনিকতাবাদী সাড়া প্রদান; বাঙালি নারীদের ‘নিম্ন’ অবস্থানও যে সমালোচনার এক স্পষ্ট দোহাই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ শতকে চিকিৎসায়নের পক্ষে এই বক্তব্য জাতি গঠনের প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে পরিবার ও স্বাস্থ্যের প্রতি জাতীয়তাবাদী স্বীকৃতি দ্বারাও চালিত হয়েছিল। ধাত্রীবৃত্তির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ কীভাবে নারীদের প্রশ্ন, জাতীয়তাবাদ ও ঔপনিবেশিক জনস্বাস্থ্য নীতিমালা দ্বারা আকার পেয়েছিল, যার সবই দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী বছরগুলোতে বাংলায় একে অপরকে ছেদ করেছিল, সে বিষয়ে এই গবেষণা একটি ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ হাজির করে।

ঔপনিবেশিকতা ও রাজনীতি
মনোজগতের বিউপনিবেশায়ন
আফ্রিকার সাহিত্যে ভাষার রাজনীতি
মনোজগতের বিউপনিবেশায়ন গ্রন্থটিকে ভাষা ও ভাষার রাজনীতি-বিষয়ে অন্যতম প্রভাবশালী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। আফ্রিকার সাহিত্য ও সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ঔপনিবেশিক শাসকরা যে প্রক্রিয়ায় সমগ্র মহাদেশটি থেকে হটিয়ে দিয়েছিল, নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো সে প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতা দেখেছেন উপনিবেশ-পরবর্তী কেনিয়াতে।
দেশটিতে ভাষা, সাহিত্য ও রাজনীতির বিউপনিবেশায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে তার প্রতিক্রিয়ায় শাসকরা যেসব নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেগুলোর বর্ণনা গ্রন্থভুক্ত প্রবন্ধগুলোতে মিলবে। এ প্রবন্ধগুলো সাহিত্যতত্ত্বের গবেষকদের কাছে যেমন আকর্ষণীয়, রাজনৈতিক কর্মীদের কাছেও তেমনই প্রাসঙ্গিক। নগুগির নিজের ও অন্য বহু মানুষের অজস্র অভিজ্ঞতার বিবরণ ও সেগুলোর বিশ্লেষণ এ বইটিকে একদিকে সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করেছে, অন্য দিকে নগুগির তাত্ত্বিক চিন্তাকে বাস্তবের শক্ত জমিনও প্রদান করেছে।

ছোটগল্প সংকলন
কলিকাল
এক বছর ধরে যে ক্যাম্পাসকে জঙ্গল মনে হয়েছে, সেই ক্যাম্পাসকেই আজ বেশ ভালো লাগতে থাকে রেহানের। ভালো লাগার কারণটাও খুব ভালো করে জানে সে। এই ক্যাম্পাসই হয়ত তার জীবন বদলে দিতে যাচ্ছে। সন্ধ্যার আবছা আলোয় সামনে রাখা ঝুড়িটার দিকে তাকিয়ে এসবই ভাবছে রেহান। কোমড়ের ধাতব শীতলতায় ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরে আসে সে।

ভ্রমণকাহিনী
টোকিও টাওয়ার থেকে
অবশেষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম । উদ্দেশ্য সূর্যোদয়ের দেশ জাপান গমন, সফরটা ১৫ দিনের। যদিও পাঁচ মাস আগে এই সফরের বিষয়ে কল্পনাও করিনি আমি । এই প্রথম পরিবারকে রেখে একেবারে দেশের বাইরে একটি ঈদ কাটাব বলে হয়ত পরিবারের সবাই একটু বেশি উদ্বিগ্ন।
